সেই আবার নতুন চাকরী পাওয়ার মতো ব্যাপার, প্রথম দিননির্দিষ্ট সময়ে উর্দ্ধতন আধিকারিকের কাছে জয়েনিং রিপোর্ট দিয়ে কাজ বুঝে নেওয়া , শুধু কাজটাই একই কর্মস্থল আর কর্মী ভিন্ন। এই পোস্টিং এ একটা অভিনব ব্যাপার আছে। আমার বাল্যকালের সবথেকে প্ৰিয় বন্ধু তন্ময় ঘোষ, ও এখানেবিগত ধরে পোস্টেড্ ছিল। আমরা একসাথে হাই স্কুল এ পড়েছি , মানে কলোরা উচ্চ বিদ্যালয়ে। তারপরে একসাথে ইঞ্জিনিয়ারিং করি একই বিষয় নিয়ে। আবার অবাক ব্যাপার যে আমরা একসাথেই এয়ার ইন্ডিয়া তে চাকরী পেয়েছিলাম এবং একসাথে ৬ বছর এয়ার ইন্ডিয়া তে কর্মরত থাকার পরে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পাবলিক সার্ভিস কমিশন থেকে পরীক্ষা দিয়ে আবার ভাগ্যক্রমে একই চাকরিতে একই দিনে ভিন্ন স্থানে জয়েন করি। প্রথম পোস্টিং এ আমি কাটোয়া সাবডিভিশন এ আর তন্ময় তমলুক জেলায়। দ্বিতীয় পোস্টিং এ আমি বাঁকুড়া জেলাতে আর ও ঝাড়গ্রাম জেলায়। আর এইবারে আমি ঝাড়গ্রাম জেলায় আর ও কলকাতার বেলতলা আর টি ও তে। আমাদের এই জুটি আমাদের গ্রামাঞ্চলে জগাই মাধাই বা হরিহর জুটি নাম বেশ সুনাম আছে। তাই নতুন করে আর বিশেষ কিছু বলার নেই শুধু এখনো পর্যন্ত একসাথে দুজনে একই অফিসে পোস্টিং পাইনি। আশা করি একদিন নিশ্চয় নিজেদের জেলায় মানে মেদিনীপুরে বা অন্য কোথাও একসাথে কাজ করার সুবর্ণ সুযোগ ভগবান আমাদের নিশ্চয় দেবে। যাকগে সে সব কথা , আবার ফায়ার আসি ঝাড়গ্রামে। তন্ময় আমাকে অফিসে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দ্বায়িত্ব বুঝিয়ে দিলো। জেলার সীমানা ও কর্ম সম্বদ্ধে সামান্য পরিচয় করিয়ে পরেরদিন আমাকে সম্পূর্ণ দ্বায়ভার হাতে তুলে ও বিদায় নিয়ে ওর নতুন গন্তব্যে চলে গেলো। মনটা একটু খারাপ হয়ে গেলেও এইটা স্বান্তনা হয়ে থাকলো যে অনেকদিন নাহলেও অন্ততঃ একদিন আমরা দুজনে একসাথে তো কাজ করলাম। ধন্যবাদ ভগবানকে।
ঝাড়গ্রাম জেলা হিসেবে খুবই ছোট মাত্র আটটি ব্লক নিয়ে একটি জেলা। ২০১৫ সালের আগে এই ঝাড়গ্রাম অবিভক্ত মেদিনীপুর এর অন্তৰ্গত একটি সাবডিভিশন ছিল।
Write a comments