দলমা বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্যটি ঝাড়খন্ড রাজ্যের সিংভূম জেলার অন্তর্গত। ঝাড়খণ্ড রাজ্যের অন্যতম ইস্পাত নগরী জামশেদপুর থেকে এটি ১০ কিলোমিটারের দূরত্বের মধ্যে পড়ে। মোটামুটি ভাবে সারা বছরই এই অভয়ারণ্য প্রবেশ করা যায়। বিস্তীর্ণ এই পাহাড়ি অভয়ারণ্য নিজের গাড়ি অথবা সাফারি জিপ মাধ্যমে ভ্রমণ করা সম্ভব। যদি নিজের গাড়িতে করে ভ্রমণ করতে চান তাহলে যে কোনদিন বিকেল চারটের মধ্যে অভয়ারণ্যের প্রবেশদ্বার গেটে পৌঁছাতে হবে গাড়ি এবং গাড়ির সমস্ত কাগজপত্র নিয়ে। গেটে পৌঁছে গাড়ির সমস্ত কাগজপত্র দেখিয়ে প্রবেশপত্র নিতে হবে এবং সামান্য একটা ফিস পেমেন্ট করতে হবে কিন্তু যদি বিকেল চারটে বেজে যায় তাহলে ভেতরে যাওয়ার অনুমতি পাওয়া যাবে না। প্রবেশদ্বারের কাছে একটি শুভেনিয়র সোপ আছে যেখান থেকে এই জঙ্গলের কিছু অনন্য উপাদান সংগ্রহ করে নেওয়া যেতে পারে যেমন মধু কিছু হাতের কাজ আদিবাসী মানুষদের কিছু সরঞ্জাম ইত্যাদি ইত্যাদি। প্রবেশদ্বারের পাশেই একটি জায়গাতে একটি দলমার বিখ্যাত হাতি দাঁড়িয়ে থাকে। তবে নিজের গাড়ি নিয়ে গেলে গাড়ির গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স ভালো থাকা উচিত অন্তত ২০০ মিলিমিটার থাকা উচিত না হলে পাহাড়ি রাস্তায় কোথাও কোথাও গাড়ির নিচে লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। দলমার জঙ্গল শুষ্ক উপদ্বীপীয় শাল ও পর্ণমোচী বৃক্ষের সমারোহ তাই এই জঙ্গল শীতের শেষের দিকে সম্পূর্ণ শুষ্ক এবং পাতাঝরা আর বর্ষার ঠিক আগেই সবুজে ঢেকে যায়। এই অভয়ারণ্যটি প্রায় ২০০ বর্গকিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত। চান্ডিল লেক থেকে শুরু করে ডিমনা লেক পর্যন্ত দলমা পাহাড়কে কেন্দ্র করে এই বিস্তীর্ণ অভয়ারণ্যটি বিস্তৃত।
এই অভয়ারণ্যটি বন্যহাতির প্রাকৃতিক অবস্থান এই অভয়ারণ্যে চার পাশে বন্য হাতির বিচরণ লক্ষ্য করা যায় শুধু বন্য হাতি ছাড়াও এখানে আরো বিভিন্ন রকমের জীবজন্তুর দেখা মেলে যেমন ভাল্লুক, রেড জায়ান্ট কাঠবেড়ালি, বন্য কুকুর, ভারতীয় ধূসর নেকড়ে, বিভিন্ন প্রজাতির সাপ, সরীসৃপ, পঙ্গোলিন এবং কিছু বাঁদর হনুমান এবং হরিণ।
Write a comments