অনুমান করেছিলাম রাতে ঠান্ডাটা ভালোই পড়বে, কিন্তু তাই বলে এতটা? তাঁবুতে সারারাত ঠান্ডায় জমে এক্কেবারে কুলফী. ঘুম ভাঙল 6.30 এ. তাঁবুর বাইরে বেরিয়ে দেখি কুয়াশা পুরো ঢেকে রেখেছে চতুর্দিকে, 200 মিটার দূরের পাহাড় টাও যেনো আবছা. এই ঠান্ডায় কি করে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেবো ভেবে পাচ্ছি না. হঠাৎ এক জাদুঘর(তাঁবুর মালিক) জাদুবলে হাতে ধরিয়ে দিলো গরম গরম চা.. ঠান্ডা ফাটা ঠোঁট গরম চা তে তৃপ্তি পেলো.

এইবার রেডি হয়ে আবার বেরোতে হবে. দুজন ফটাফট তৈরী হয়ে গেলাম আর আমাদের সাথী ঘোড়াটার ও একটা চাক্ষুষ পর্যবেক্ষণ করে নিলাম.

বেরিয়ে পড়লাম জঙ্গল আর পাহাড় এর রোমাঞ্চকর রাইডিং এ.
রুট ম্যাপ মানসিক ভাবে তৈরি. প্রথমে পাঞ্চেত জলাধার যাবো তারপর সাপের বাগান (snake garden) তারপর গড় তারপর রঘুনাথপুর হয়ে জয়চণ্ডী পাহাড়. পাহাড় থেকে আসানসোল হয়ে সোজা ন্যাশনাল এক্সপ্রেসওয়ে ধরে কলকাতার দিকে.

পাঞ্চেত জলাধারের কাছে একটা সাংঘাতিক দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারত কিন্তু একটা বাচ্চার নির্দেশে রেহাই পেলাম.
কিরকম?
আমি তো বাইক চালাচ্ছি সম্রাট পেছনে বসে গতিবেগ তখন সর্বোচ্চ 20km/h হবে. সামনে তাকিয়ে দেখি 50 মিটার আগে রাস্তা গিয়ে শেষ হয়েছে খাদে. সেতো ঠিক আছে ভগবান চোখ দিয়েছে খাদে পড়ব না. কিন্তু কিভাবে জানবো, যে রাস্তায় দাঁড়িয়ে খাদের গভীরতা মাপছি সেই রাস্তাটা নিচে থেকে খোকলা. মানে যেকোনো মুহূর্তে রাস্তা ভেঙে গভীর খাদে পড়ব গাড়ি সমেত দুজন. একটু খেয়াল করলেই ছবিতেই বোঝা যাবে ভালোভাবে. খুব বেঁচে গেছি. ওই ভাই টার জন্য. ওই তো ইনফরমেশন দিলো “ভাইয়া উধার মত যাইয়ে... " পরে অবশ্য CISF এসে সতর্ক করে গেলো.

পাঞ্চেত ঘুরে সোজা পুযাপুর হয়ে জঙ্গল আর পাহাড়ের মধ্য দিয়ে পৌঁছলাম গড়.
আজ থেকে প্রায় 1200 বছর আগের রাজা" দামোদর শেখর" নির্মাণ করেছিলেন এই রাধা-কৃষ্ণ রাস মন্দির. এই মন্দির ই হল একপ্রকার গড়পঞ্চকোটের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য. আশেপাশে আরও অনেক ভঙ্গস্তূপ. পাহাড়, জঙ্গল, ইতিহাস, ধর্ম, প্রাকৃতিক শোভা সব মিলিয়ে এক কথায় গড় অনির্বচনীয়.

বেলা গড়িয়ে আসছে আবার কলকাতা ফিরতে হবে মানে একটানা 280+km রাইডিং.. উফ. একটা উত্তেজনা.
রঘুনাথপুর থেকে বিকাল 4 টাই কলকাতামুখ হলাম আসানসোল হয়ে দুর্গাপুর বাঁ দিকে রেখে এক্সপ্রেসওয়ে ধরে একদম 75±kmh. শক্তিগড়ে লাংচা খেয়ে ডানকুনি - দক্ষিণেশ্বর হয়ে কলকাতা এয়ারপোর্ট রাত 10 টাই পৌঁছে গেলাম. সেই 6 ঘন্টা যেতে ও আসতে 6 ঘন্টা.

যারা এখনো সময় করে ঘুরে আসতে পারেননি, তাদের বলছি একবার ঘুরে আসুন একটু বেশি সময় নিয়ে আর বেস্ট টাইম হল বসন্তে.. আগুন রঙের পলাশ জঙ্গল আর পাহাড় আপনার মন টানবেই...
ওরে পিন্দারে পলাশের বন, পালাবো পালাবো মন
Write a comments