গেস্ট রুমের দেওয়াল ঘড়িটা অনেকদিন ধরেই ব্যাটারি শেষ হয়ে বন্ধ পড়েছিল। যখনই সময় দেখতে হতো দেওয়ালে তাকিয়ে বারবার হতাশ হয়ে নিরাশ হতে হতো। প্রায়ই ভাবতাম যে ব্যাটারিটা চেঞ্জ করবো কিন্তু ভুলে যেতাম। একদিন সন্ধ্যায় অফিস থেকে ফিরে ওই ঘরে বসে খুচখাচ কিছু একটা করছি এমন সময় বৌ এসে বেজার মুখে কিছু কথা শুনিয়ে গেলো ওই দেওয়াল ঘড়ির জীবনাবসান ঘটে যাওয়ায় আমার যেন কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই , একটা সামান্য ব্যাটারি বদলাতে আমার এতকালের অনীহা কেন ? আমি নাকি দিনদিন অলস কুঁড়ে হয়ে যাচ্ছি, ঘরের একটাও কাজ করি না সব ভুলে যাই আর কি , ইত্যাদি ইত্যাদি। ...
অম্লান বদনে বৌ এর মুখ ঝামটা শুনে মনে মনে বেশ তিতিবিরক্ত হলাম এবং আমার অপদার্থতার একটা উপযুক্ত জবাব দেওয়া প্রয়োজন এটা মনস্থির করলাম। বসে বসে ভাবলাম কি করা যায় শুধু কি একটা ব্যাটারি বদলে দিলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে ? তাতে কি একটা জবাব হতে পারে নাকি কিছু একটা করতে হবে। ভাবতে ভাবতে আইডিয়া টা মাথায় খেলে গেলো। একটা বিপরীত কিছু করার ভাবনা মাথায় খেলে গেলো। আর জন্ম নিলো এই অদ্ভুত আশ্চর্যের।
ঘড়িটা নামালাম দেওয়াল থেকে , যন্ত্রের বাক্স টা বার করলাম। আসতে আস্তে একটু একটু করে খুলে ফেললাম ঘড়িটি। প্রথমে কাঁচ খুলে ডায়াল থেকে কাগজটা হালকা করে তুলে ফেললাম। মেশিনটা ঘড়ির পেছন থেকে খুলে ফেললাম। মেশিনের সব যন্ত্রাংশ খুলে সাজিয়ে বসলাম বিছানায়। আর ভাবছি কি করা যাই। এমন সময় সেকেন্ড রাউন্ড মুখঝামটা শোনা হয়ে গেলো। বৌ এসে দেখে গেলো আমি ব্যাটারি বদলাতে গিয়ে গোটা ঘড়িটি খুলে বসে আছি আর কিছু একটা বিষয় নিয়ে জোরদার রিসার্চ করছি তাই রাতের খাবার টেবিলে থাকলো পরে। আর শুনিয়ে গেলো দয়া করে যেন খেয়ে বাসন গুলো যথাস্থানে রাখি। অগত্যা কি আর করি , আমিও মনে মনে পণ করেছি কিছু একটা জবাব সকালের মধ্যে বৌ নিশ্চয় পাবে।

ডায়াল এর কাগজ টা উল্টে পেছনের সাদা দিকটাই নতুন ভাবে উল্টো করে ১থেকে ১২ পর্যন্ত লিখলাম ঠিক অবিকল ঘড়ির মতো। কিন্তু ওটা লিখে ফেললেই তো আর ঘড়িটা উল্টো দিকে ঘুরে সঠিক সময় বলবে না নিশ্চয়। টেকনিকাল কিছু একটা করতে হবে। শেষে বুদ্ধিটা খেলে গেলো, মেশিন তা খুলে ভিতরের গিয়ার্ গুলো নাড়াচাড়া করে সঠিক উল্টো ইঞ্জিনিয়ারিং টা প্রয়োগ করলাম। তারপর সবকিছু ঠিকঠাক ভাবে গুছিয়ে মেশিন তা রেডি করে সঠিক ভাবে সবকিছু লাগিয়ে প্রজেক্ট শেষ করতে প্রায় মধ্যরাত হয়ে গেলো। এবং কেল্লাফতে। আমার প্রয়োগ সফল হয়েছে মনে একটা বিরাট আনন্দের ধারা বয়ে গেলো। সুর করে গিয়ে চুপচাপ শুয়ে পড়লাম। সকালের ভেলকি দেখার অপেক্ষায়।

হুম , মিশন একবারে সাকসেসফুল। ঘড়ির সময় এর সেকেন্ডের কাঁটা , ঘন্টার কাঁটা , মিনিটের কাঁটা একদম উলটো দিকে মানে বাঁ দিক থেকে ডান দিকে ঘুরছে কিন্তু সময় একেবারে সঠিক বলছে। ভিডিও টি দেখলে পরিষ্কার বোঝা যাবে ।

সকালে তো এই কান্ড দেখে বৌ একেবারে হতবাক। ভাবছে ইটা কিভাবে সম্ভব ? আমিও বুক ঠুকে বলে দিলাম জীবনে যদি এরম ঘড়ি আর কোথাও কোনোদিন দেখো তো আমাকে জানবে , আমার মনে হয় ইটা দ্বিতীয কোথাও দেখার সুযোগ নিশ্চয় হবে না। কারণ এরম আজগুবি চিন্তাভাবনা কেও করে না। সত্যি বলতে কি আমিও ভাবতে পারিনি যে এটা হতে পারে বা আগামীতে আমি কোথাও এটা দেখতে পাবো কিনা জানিনা। আপনারা যদি কেউ কখনো এই রকম অদ্ভুত আজব উল্টো ঘড়ি কোথাও দেখে থাকেন তো কমেন্ট এ অবশই জানাবেন। আজ পর্যন্ত যারা আমার কাছে এসেছে তারা সবাই এই অবাক ঘড়ির প্রশংসা করেছেন। অনেকে প্রথমে ভাবেন যে ঘড়িটা ভুল চলছে ধুর , কিন্তু পরক্ষনেই দেখে অরে না তো কেমন যেন উলটো হলেও টাইম তা তো ঠিকই বলছে।
বলাবাহুল্য , আজ আমার কাছে এই ঘড়িটি আছে এবং ঠিকই উলটো চলছে সময়ের সাথে।
https://www.youtube.com/shorts/-wwwZU8MPCU
এইবার বলি কিভাবে এটা করলাম , কিছুই না ঘড়ির মেশিন টা খুলে ভিতরে যেই আর্মেচার টা আছে তার একটা মেরু নির্দেশ আছে সেটা ঘুরিয়ে দিয়েছিলাম। মানে আর্মেচার এর নর্থ পোল তা কে সাউথ পোল আর সাউথ পোল কে নর্থ ডাইরেকশন চেঞ্জ। ব্যাস কেল্লাফতে। হুররে
Write a comments