গাছ, মাছ, ফুল, ফল, নদী , নালা, পাহাড়,আর জঙ্গল এই নিয়েই আমার শখ। মেদিনীপুর জেলায় বাড়ি হওয়ার সুবাদে জন্ম থেকেই আমরা জঙ্গলমহল -বাসি, আমার বাড়ি থেকে শালবনি বা গোদাপিয়াশাল জঙ্গলের দুরুত্ব বেশি না। শাল, সেগুন, মহুয়া ঘেরা প্রাচীন জঙ্গলের ঘ্রান আজও আমাকে নির্ভেজাল এক আনন্দ প্রদান করে । হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করে জঙ্গলের গভীর থেকে গভীরে , জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে করে গোদা গোদা পিয়া শাল গাছগুলোকে। কথা বলতে ইচ্ছে করে বন্য আদিম ভাষায়। গাছের ছায়ার নিচে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়তে ইচ্ছে হয়। কতকাল ধরে এই বন-জঙ্গল মানুষের সভ্যতার অগ্রগতির নীরব সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে। ভাবতে অবাক লাগে মানুষ একদিন আর সব জন্তুর মতো জঙ্গলে থাকতো, শিকার করতো, জীবন-যাপন করতো , আর সভ্যতার উন্নতির দোহাই দিয়ে আজ মানুষের হাতেই কুঠার , মানুষ ব্যস্ত জঙ্গল কাটতে , নগর গড়তে। এই প্রকৃতির কোনো শত্রু নেই,মানুষ-ই একমাত্র শত্রু।

সৃষ্টির আদিকাল থেকে জঙ্গলের কাছে মানুষ ঋণী। মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান সবই ছিল একসময় গাছের বিভিন্ন রূপান্তর মাত্র। আজ মানুষ জঙ্গল কেটে সাফ করতে উদ্যত। 'একটি গাছ একটি প্রাণ '- শুধুই প্রচারের বাণী হয়ে উঠেছে।

মানুষের গড়া শহরের চেয়ে ঈশ্বরের গড়া এই অরণ্য অনেক বেশি পবিত্র, অনেক বেশি শান্ত। প্রকৃতিকে জয় করা নয়, প্রকৃতির সাথে মিলেমিশে থাকাই হলো প্রকৃত সভ্যতা।

মানুষের গড়া ইট-পাথরের দেয়ালের চেয়ে এই গাছপালার ঘেরাটোপ অনেক বেশি আপন। বনের এই আদিম রূপ আমায় মুগ্ধ করেছে। বড় বড় শাল-পিয়ালের ছায়ায় দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছে, জীবনের সব জটিলতা কত তুচ্ছ। এই অরণ্য আমায় কথা বলতে শেখায় না, বরং আমায় শেখায় নীরব হয়ে প্রকৃতির স্পন্দন শুনতে।
Write a comments